এনসিপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব আলমের প্রভাব ও চাপের কারণে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।
মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “মানুষ নিজে বিপদে না পড়লে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝে না, বরং অন্যের বিপদে মজা নেয়। আমি এনসিপির কিছু নেতার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যা বলেছি, তা হঠাৎ করে বহিষ্কারের পরে বলছি না। আগেও অনেক যোগ্য মানুষকে দলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের দাসত্ব মানতে না পারার কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এখনও আমি বলছি, যারা দলের পদের কারণে বের হননি, তারা শুধুমাত্র দুর্নীতিবাজ কোরামের কাছে মাথা নত না করার কারণে দল ছেড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বারবার সাংগঠনিক নিয়ম মেনে অভিযোগ জানিয়েছি, সাধারণ সভায় এবং শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছি। তবু আমাকে কেন সমকামী হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হলো, সেটা পরিষ্কার করা হয়নি। আপনার স্থানেও থাকলে ভাবুন—আপনাকে যদি সমকামী বা গে বলা হয়, ছবি দিয়ে নিউজ করা হয়, আপনার পরিবার ও প্রতিবেশীরা সেটা দেখে কেমন অনুভব করবে?”
মুনতাসির অভিযোগ করেছেন, “আমাকে আমার চাকরি থেকে অন্যায়ভাবে বের করেছে মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব। তিনি স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন, আমার চাকরি খেয়ে দেবে। মিতু আপা সাক্ষী। আমাদের ওপর পুলিশ দিয়ে হামলাও করা হয়েছে, আমি ও আরও অনেকে আহত হয়েছি। এরপরও নাহিদ ইসলাম আমার কল ধরেননি। শুনেছি, মাহবুব নাহিদকে ধমকাইয়া আমাকে বহিষ্কার করিয়েছেন। আমি চাইলে কল রেকর্ড প্রকাশ করতে পারি, যা দেখাবে মাহফুজ আলম কিভাবে নিজের ভাইয়ের দুর্নীতি ঢাকতে চেষ্টা করেছেন।”
তিনি যোগ করেন, “আমার চাকরি খাওয়ানো হলো, পুলিশ দিয়ে মারধর করা হলো, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, সমকামী বানিয়ে নিউজ করা হলো, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপমান করা হলো। তারপরও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, লোক লাগানো হচ্ছে, আমার বাসায় পর্যন্ত চলে আসছে। সব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া পেছনে সরিয়ে আমাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আপনারা যদি আমার জায়গায় থাকতেন, কী করতেন?”





