জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “১২ তারিখ আমরা নিচ্ছি ব্যালটের প্রস্তুতি, একটা দল নিচ্ছে বুলেটের প্রস্তুতি। আমরা এই বুলেট বিপ্লবকে ব্যালট বিপ্লব দিয়ে প্রতিরোধ করব। জনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করব।”

\r\n

শনিবার বিকেলে খুলনায় ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সমর্থনে ফুলতলায় এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

\r\n

নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দিনের ভোট রাতে দেওয়া, মৃত ব্যক্তির নামে ভোট এবং ডামি নির্বাচন পরিচালনার মতো কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। এসব কাজ ওপর মহলের নির্দেশে হয়েছে বলেই তারা বিশ্বাস করতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এবার জনতার কাতারে নেমে জনতার নির্বাচন করতে হবে। জনগণই তখন প্রশাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

\r\n

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয়। এই নির্বাচন পেতে সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছেন, বহু মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “আয়নাঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়, একসময় পুরো বাংলাদেশই নিপীড়িত মানুষের জন্য উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল।” ২০০৯ সালের আগের লগি–বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির শাহাদাত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

\r\n

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, অনেক সাংবাদিক তাদের কাছে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে তারা চাইলেও সত্য সংবাদ প্রচার করতে পারেন না। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল গণমাধ্যম ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে। তার ভাষায়, জুলাই আন্দোলনের সময় কয়েকটি গণমাধ্যম ছাড়া কেউ জনতার কথা বলেনি। তিনি বলেন, “জনগণ যখন জাগে, তখন কোনো মিডিয়ার প্রয়োজন হয় না। জনগণই তখন মিডিয়া হয়ে ওঠে।”

\r\n

ডুমুরিয়া ও ফুলতলার ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একটি পক্ষ কালোটাকা ও টাকার বস্তা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “ভোটের আগে এক দিন টাকা নিয়ে পাঁচ বছর গোলাম থাকবেন, নাকি বিনা পয়সায় ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছর সেবা নেবেন?” ভোট বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ভোটাধিকার অর্জনের জন্য শতসহস্র মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই শহীদদের রক্তের দোহাই দিয়ে তিনি ভোট কেনাবেচা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।