‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই রূপরেখা প্রকাশ করেছে দলটি।


মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে জামায়াত আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬-এ দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এই নীতিগত রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক মর্যাদাকে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশের জন্য ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।


তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। শিক্ষিত তরুণরা শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না, নারীরা এখনো নানা কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে কোটি কোটি মানুষ কঠোর পরিশ্রম করেও সামান্য সংকটেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছেন।


এই বাস্তবতা মোকাবিলায় সৎ ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখা যাবে না। অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হতে হবে, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারে।


তিনি বলেন, দেশের বাইরে কর্মরত লাখো প্রবাসী শ্রমিক তাদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স পরিবার ও অর্থনীতিকে সহায়তা করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। তবে তাদের অবদান কেবল অর্থনৈতিক নয়; তারা অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।


ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী—শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের অনেকেই দেশে প্রতিষ্ঠান গঠন, নতুন প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে প্রস্তুত।


অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানকে বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে অনানুষ্ঠানিক শ্রমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।


জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্বের ওপর। সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধকে তিনি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।


নারীর অংশগ্রহণ ও কাঠামোগত সংস্কার


সম্মেলনে নারীর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।


আয়োজকদের মতে, জামায়াতের এই পলিসি সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন।