জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতনের সফলতা সত্ত্বেও এখনও সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়—এ কারণে অনেকেই জুলাইয়ের অর্জন নিয়ে শঙ্কিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের স্মরণে’ দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “জুলাই ব্যর্থ হয়েছে—এটা বলার সময় এখনও আসেনি। বরং এর সবচেয়ে বড় সফলতা হলো, একটি স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় দেওয়া গেছে, মানুষ মুক্ত হয়েছে। এখন প্রয়োজন গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান করা।”

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তাহের বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে—তা না হলে দেশ আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, যা জনগণ মেনে নেবে না। সংস্কারবিহীন নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, “গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর মানুষ মৌলিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে—যা স্বাধীনতার পর এই মাত্রায় কখনও দেখা যায়নি। সরকার সংস্কারের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সেটা প্রতিরোধের চেষ্টা হচ্ছে।”

তাহের দাবি করেন, বিএনপিসহ তিনটি দল ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তি এখন একত্রিত। তিনি বলেন, “সব দলকে বলবো—আসুন, মৌলিক পরিবর্তনের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হই। সংবিধানের প্রয়োজনীয় ধারাগুলো সংস্কার করতে হবে। আর যদি না করা হয়, তবে আমরা আবারও আন্দোলনে নামবো এবং সরকারকে বাধ্য করবো জনগণের দাবি মেনে নিতে।”