বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি লবিং প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ (সিআই)। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বাস্তবতা আড়াল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সম্প্রতি লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স-এর ব্যারিস্টার স্টিভেন সাচা পাউলস কেসি এবং অ্যালেক্স টিন্সলি জাতিসংঘের গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা প্রচারের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ-এর কাছে একটি আবেদন জমা দেন শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে। এতে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়।

সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই লবিং প্রচেষ্টা ইচ্ছাকৃতভাবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন, পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে উপেক্ষা করছে।” সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ে গণঅভ্যুত্থানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়।

সিআই আরও বলেছে, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইন সংস্থা এমন একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্বাচন কারচুপির মতো অভিযোগ রয়েছে।”

সিআই-এর দাবিসমূহ:

১. বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন আওয়ামী লীগের এই লবিং প্রচেষ্টার অর্থায়নের উৎস তদন্ত করে।

২. শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে কীভাবে রাজনৈতিক ও লবিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করা।

৩. জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ—যেমন ২৪ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড, সংবাদমাধ্যম দমন, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও দুর্নীতির বিষয়গুলো অবহিত করা।

সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ান, অত্যাচারীদের নয়। একটি বাছাই করা মানবাধিকার বিবরণী দিয়ে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে দুর্বল করা যাবে না।”