চট্টগ্রামে আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার নগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ সংক্রান্ত আবেদন করলে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন তা মঞ্জুর করেন।

\r\n

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন

\r\n

এর আগে সোমবার আদালত আরও দুটি মামলায়—জাতীয় পতাকা অবমাননা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায়—চিন্ময়কে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

\r\n

২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর, চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সহিংস সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

\r\n

এছাড়া সেদিন আদালত এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়। মোট ৬টি মামলায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

\r\n

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাসরাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, রিপন দাস সাইফুলের ঘাড়ে বঁটি দিয়ে কোপ দেন, চন্দন দাস কিরিচ দিয়ে কোপান এবং বাকিরা লাঠি, ইট ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে সাইফুলকে মারধর করে হত্যা করেন।

\r\n

২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর, চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেন। এরপর ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

\r\n

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মফিজ উদ্দিন বলেন, “চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব মামলার তদন্তে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন হওয়ায় আদালতে আবেদন করা হয় এবং আদালত তা অনুমোদন করেছেন।”