\"বুদ্ধিজীবী\" ডা. আলিম চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে নিজামী জড়িত। এই দাবীটা করেন আলিম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। নিজামীর নামে যখন হাসিনার কোর্টে মামলা চলছিল তখন শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী কোর্টে আসে নিজামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিতে।


শ্যামলী দাবী করেন আল বদরের লোকজন পরিচয় ঢাকতে মুখে কাপড় পরে তাদের বাসায় এসেছিল। কিন্তু শ্যামলী জিজ্ঞেস করার সাথে সাথেই তারা নিজেদের দলের নাম এবং দলের কমান্ডারের নাম বলে দেয়!

শ্যামলী নাকি এই ঘটনা ৪০ বছর নানান মানুষকে বলেছেন কিন্তু কেউ নাকি নিজামীর ভয়ে এটা পাবলিকলি বলে নাই।


শ্যামলী এই ঘটনা নিয়ে বইও লিখেছেন। কিন্তু সেই বইয়েও প্রথমে নিজামীর নাম নেন নাই। দোষ দিয়েছেন ডা. আলিমের বন্ধু মাওলানা মান্নানকে। যখন শ্যামলীকে জিজ্ঞেস করা হয় যে কেন নিজামীর নাম সে বইয়ে প্রথমে উল্লেখ করে নাই, তখন শ্যামলী উত্তর দেয় যে লেখার বিষয়বস্তু তার স্বামী ছিল তাই সে নিজামীর প্রসঙ্গ আনে নাই। আরেকবার বলে যে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রকাশক নিজামীর নাম বাদ দিয়ে দেয়।

তখন আইনজীবীরা দেখায় যে বইটার দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৯৬ সালে আসে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। শ্যামলী কোন উত্তর দিতে পারেন নাই।



এরপর শ্যামলী দাবী করেন যে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নাকি নিজামীর ইনভলভমেন্টের ব্যাপারে বলেছেন। অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তার কোর্টের জবানবন্দীতে বলে যে যে শ্যামলী তাকে এই ব্যাপারে কিছু জানায় নাই।

এরপর শ্যামলীকে জিজ্ঞস করা হয় যে নিজামী আল বদরের কমান্ডার এটা শ্যামলী কিভাবে জানলো। শ্যামলী জানায় যে দৈনিক সংগ্রামে সে পড়েছে ১৯৭১ সালে।


সরকার কোর্টে ১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রামের সব কপি জমা দিয়েছিল। কিন্তু ঘেঁটে দেখা যায় যে কোথাও আল বদর কমান্ডার হিসাবে নিজামীর উল্লেখ নাই। কিন্তু এই স্বাক্ষ্যের ওপর বেসিস করেই হাসিনার কোর্ট রায় দেয় যে নিজামী বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টারমাইন্ড। এই স্বাক্ষ্যের ওপর বেসিসেই নিজামীর ফাঁসি হয়।


কোর্ট শ্যামলীর কথাকে বিশ্বাস করেছে কেন জানেন? কারণ শ্যামলী একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তাই তিনি মিথ্যা বলছেন এটা বিশ্বাসযোগ্য না! উনি যেহেতু বলেছেন যে সংগ্রামে আল বদর কমান্ডার হিসাবে নিজামীর নাম এসেছে তাই এসেছে। কোন পেপার কাটিং পর্যন্ত জমা দেওয়ার দরকার নাই। শ্যামলী নাসরিন বললেই হবে-


“The P.W. 13 [Shamoly Nasrin Chowdhury] is a most respectable person of the society. We find no reason to disbelieve her. We accept her evidence that during the Liberation War in 1971 news were published in different newspapers mentioning the accused appellant Motiur Rahman Nizami as leader/commander of Al-Badr Bahini.”


শ্যামলী নাসরিন গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সমর্থন করেছেন। তার মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী গণতন্ত্রহীনতার জাস্টিফিকেশন দিয়েছেন। 


অথচ স্বাধীন দেশে আমরা নিজামী হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে পারছি না। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টপ রেজাল্ট করা পলিটিশিয়ানকে মেরে ফেলল শ্যামলী-নুজহাতরা এটা কি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড না?

যারা আজও নিজামী হত্যাকাণ্ডের পক্ষে আছেন, তারা যেন জেনে রাখেন যে কালকে তাদের শত্রুরাও এরকম মিথ্যাচারের মাধ্যমে তাদের হত্যা করতে পারে।


আমাদের লড়াইটা শুধু হাসিনার বিরুদ্ধে না। খুনী মিথ্যুক শ্যামলী-নুজহাতদের বিরুদ্ধেও। হাসিনা পালালেও শ্যামলী-নুজহাতরা পালায় নাই। আমাদের লড়াইও তাই জারি আছে।


আজ ১৪ই ডিসেম্বর শ্যামলী-নুজহাতদের শাস্তি না চাইলে আমরা কোনদিন বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। আলীম চৌধুরীর যেমন বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। নিজামীরও আছে। আলীম চৌধুরী ডাক্তার জন্য সে বুদ্ধিজীবী আর নিজামী ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজের ছাত্র ছিল জন্য সে বুদ্ধিজীবী না তাই তাকে অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলা জায়েজ এমন মনোভাব নিয়ে তো জাতি হিসাবে আমরা আগাতে পারব না।


১৪ই ডিসেম্বর ২০২৪ (নুজহাত চৌধুরী জুলাই গণহত্যায় \"বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী\" হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় বিরোধিতাকারীদের একজন এই খুনী নুজহাত)


 লেখক, মোহাম্মদ ইশরাক

লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট