আজ ইরান ইসরায়েলের ভেতরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়।
প্রধান লক্ষ্যবস্তুসমূহ:
১. পালমাচিম (Palmachim) বিমানঘাঁটি: এটি ইসরায়েলের মহাকাশ কর্মসূচি, মিসাইল টেস্টিং এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ (David's Sling) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
২. ওভদা (Ovda) বিমানঘাঁটি: নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলি ও পশ্চিমা মিত্রদের (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) যৌথ বিমান মহড়ার প্রধান কেন্দ্র। এখানে F-35 ও F-16 যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩. শিনবেত (Shin Bet) সদরদপ্তর: ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কার্যালয়, যা দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোর \"মস্তিষ্ক\" হিসেবে পরিচিত।
এই হামলার কৌশলগত ও রাজনৈতিক প্রভাব:
* আর্থিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ: ইরানের সস্তা ড্রোনের তুলনায় ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলগুলোর খরচ অনেক বেশি। ড্রোনগুলো রাডার ফাঁকি দিয়ে নিচ দিয়ে উড়ে আসায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
* পারমাণবিক ফতোয়ার অবসান: ২৮শে ফেব্রুয়ারির মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ায় তার দেওয়া 'পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী ফতোয়া' এখন অকার্যকর হওয়ার পথে। নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান এ বিষয়ে এখনও অস্পষ্ট এবং তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) ওপর নির্ভরশীল, যারা দীর্ঘকাল ধরে পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে।
* ইসরায়েলের ইমেজ সংকট: ইসরায়েল ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কড়া সেন্সরশিপ আরোপ করেছে। কারণ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এলে তাদের \"অভেদ্য প্রতিরক্ষা\" ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।
* অর্থনৈতিক অস্থিরতা: উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বড় বড় আন্তর্জাতিক ব্যাংক (যেমন HSBC, Citibank) তাদের কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে এবং তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপসংহার: যে যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক শক্তি হওয়া থেকে আটকানো, সেই যুদ্ধই এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
(তথ্য উৎসঃ মানি ফর হিস্ট্রি)
ডেল এইচ খান
ডেল এইচ খান
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক\r\n\r\n





