ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজার “শাপলা চত্বর ছিল ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি” মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২০১৩ সালের ৫ মে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ রেহান আহসানের বোন ফারিয়া স্মরণী ভাষা। তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে মাহিরকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ফেসবুক পোস্টে ফারিয়া জানান, শাপলা চত্বরে নিহত মাদরাসার এতিম শিশু ও আলেমদের নিয়ে এমন অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার অমানবিক ও ঘৃণ্য। তিনি বলেন, “এই দেশে রাষ্ট্রের গুলিতে নিহত সবাই শহীদ—তা শাহবাগ হোক, শাপলা হোক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোক। গণহত্যা কোনো অজুহাতে সমর্থনযোগ্য নয়।”

ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি ‘৩৬ শে জুলাই আমরা থামবো না’-তে। সেখানে প্রদর্শিত ছবিতে আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি থাকায় বাম ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় সাংবাদিকের প্রশ্নে মাহির বলেন, “শাপলা চত্বর অবশ্যই ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ছিল।”

ফারিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানান, মাহিরকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। “এটা শেখ পরিবারের বাংলাদেশ নয়, এটা জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেখানে শহীদদের মর্যাদা ধর্ম, পোশাক বা বিশ্বাস দেখে নির্ধারিত হয় না।”

আগামীকাল (রোববার) শেষ হবে ফারিয়ার দেওয়া সময়সীমা। তিনি জানিয়েছেন, আল্টিমেটাম শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বুয়েটের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী রেহান আহসান। পরদিন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তার লাশ পাওয়া যায়। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুরাগী হওয়ায় তিনি হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।