আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, “জুলাই বিপ্লবের পর পুরো জাতি ভারতীয় হেজেমনির (আধিপত্যের) বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে—এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দৃশ্যমান অর্জন। এর বাইরে কোনো কিছুই এখনো পরিষ্কার নয়।”
\r\nশনিবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত '৩৬ জুলাই ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান ২০২৪' গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
\r\nগ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন আমার দেশ-এর সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম, বার্তা সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন ও মুরশিদুল আলম চৌধুরী। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে খুব কম বই প্রকাশিত হয়েছে। এই বই একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকার চাইলে এমন উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে পারে। বিপ্লবের ৯ মাস না পেরোতেই বিকৃত বয়ান তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তাই বিপ্লবীদের আরও সোচ্চার হতে হবে।”
\r\nতিনি বলেন, “বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো মেনিফেস্টো জাতির সামনে তুলে ধরা হয়নি।”
\r\nআন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের সুরক্ষা, গণহত্যার বিচার এবং ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক শক্তি যেন ফ্যাসিবাদী না হয়ে ওঠে সে ব্যবস্থা গ্রহণ—এ ছিল সরকারের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু এসব কোনো কাজেই অগ্রগতি হয়নি।”
\r\nতিনি সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “৯ মাসে কোনো দৃশ্যমান সংস্কার না হওয়ায় জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এতে সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যর্থতাই স্পষ্ট।”
\r\nপরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “সরকারের সময় দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। সাফল্যের সম্ভাবনাও দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারকে হয়তো সংস্কারের চেষ্টা বাদ দিয়ে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সরে যেতে হতে পারে।”
\r\n






