অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সুপারিশের সমঝোতার বিষয়গুলো ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
\r\nইতালির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আরএআই নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।
\r\nসম্প্রতি ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতালি সফর করেন তিনি। সফরের ফাঁকেই এই সাক্ষাৎকার দেন।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, গত গ্রীষ্মে ছাত্র আন্দোলনের কারণে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। ছাত্র, যুবক ও শ্রমিকরা জীবন দিয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাদের আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি প্যারিসে অবস্থান করছিলেন।
\r\nপ্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের ফলে দেশের প্রায় সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছিল। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সর্বাগ্রে লক্ষ্য ছিল সমাজ ও অর্থনীতির পুনর্গঠন। ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাঠামো—সবকিছুই ছিল অরাজকতায় বিপর্যস্ত। বর্তমানে দেশ ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
\r\nড. ইউনূস বলেন, \"গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন অপরিহার্য। তবে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজন। এজন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাসহ ১৫টি আলাদা কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই দেশ সংস্কারের পথে এগোচ্ছে।\"
\r\nতিনি আরও জানান, জুলাই মাসের মধ্যে 'ঐকমত্য কমিশন' রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে। এরপরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
\r\nপোপ ফ্রান্সিসের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, \"তিনি ছিলেন শান্তির দূত। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে তার ভূমিকা অনন্য।\"
\r\nএছাড়া তিনি তার বিখ্যাত 'তিন শূন্য তত্ত্ব' (Zero Poverty, Zero Unemployment, Zero Net Carbon Emission) আগামীর পৃথিবীর জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন।







