একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ, প্রশ্নে উত্তরাঞ্চলের মানুষ

তিস্তা শুধু একটি নদী নয়–উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন, কৃষি ও টিকে থাকার প্রতীক। নদীভাঙন, খরা, বন্যা ও পানিসংকটে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা তিস্তাপাড়ের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ছিল এক বড় আশার নাম।

গংগাচড়া (রংপুর) : বছরের পর বছর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, সমীক্ষা ও আলোচনা চললেও এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে একনেকে দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে–তিস্তা কি আবারও প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতেই আটকে যাচ্ছে?

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ঘিরে গত এক দশকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এসেছে বহু প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চীনের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। পরে বিএনপিও ক্ষমতায় এলে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়। নির্বাচনী জনসভা থেকে শুরু করে আন্দোলন-সমাবেশ–সব জায়গাতেই তিস্তা ছিল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় ইস্যু। চীনের আগ্রহ, রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রশাসনিক তৎপরতায় নতুন আশার সৃষ্টি হলেও এখনো প্রকল্পটির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রশ্ন–পদ্মা ব্যারাজের মতো বড় প্রকল্প অনুমোদন পেলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন এখনো অনিশ্চয়তায়? উত্তরাঞ্চলের মানুষের দাবি, রাজনৈতিক আশ্বাসের বাইরে গিয়ে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করা হোক।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের পর টানা তিন বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সমীক্ষা চালায় চীনের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন। শুরু থেকেই প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল চীন। তবে ভারতের আপত্তির কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সে পথে এগোয়নি। পরে সরকারিভাবে জানানো হয়, তিস্তা প্রকল্পে ভারত কাজ করবে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবারও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে সঙ্গে নিয়ে তিস্তা অববাহিকা পরিদর্শন করেন। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে।

#নির্বাচনী প্রচারে তিস্তা ছিল বড় প্রতিশ্রুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠ এবং নীলফামারীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, উজানের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে। তিস্তা অববাহিকাকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা এবং নদীভাঙন ঠেকানো তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার ১১টি পয়েন্টে আয়োজিত “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই” কর্মসূচির সমাপনী জনসমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানেও তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

চলতি বছরের ১১ মে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক চাকরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমান সরকার চীনের সহায়তায় দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায়।

#আন্দোলন, সমাবেশ ও রাজনৈতিক চাপ

তিস্তা ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও জোরালো বক্তব্য এসেছে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই” স্লোগানে তিস্তা নদীর দুই পাড়জুড়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় হাজারো মানুষ নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরুর দাবি জানানো হয় সেই কর্মসূচি থেকে।

২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে প্রথম কোদালটি তিস্তাপাড়েই বসানো হবে।”

তিনি বলেন, তিস্তা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ভূ-রাজনৈতিক চাপকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াত আয়োজিত তিস্তা ব্যারেজসংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠের নির্বাচনী জনসভায় তিনি ঘোষণা দেন, “সব ধরনের ভূ-রাজনৈতিক রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি তিস্তাকে পুনরুজ্জীবিত করে উত্তরবঙ্গকে দেশের “কৃষি ও শিল্পের রাজধানী” হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন।

পরে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার মিরপুরের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “চীন যদি তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে, তবে জামায়াতে ইসলামী পূর্ণ সমর্থন দেবে।”

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৫ মে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প করুক, তাতে আপত্তি নেই; তবে তা কোনোভাবেই তিস্তাকে বাদ দিয়ে হতে পারে না। মানুষ এখন তিস্তা নিয়ে রাজনৈতিক আশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আর কথার ফুলঝুরি বিশ্বাস করেন না। শুধুমাত্র আশ্বাসের বুলিতেই এ অঞ্চলের মানুষকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তাই তারা এখন দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান।

গংগাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী আক্ষেপ করে বলেন, “তিস্তাপাড়ের মানুষ বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই শুনে আসছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নদীভাঙন, খরা আর বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করেই মানুষের জীবন কাটছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যেত।”

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেছেন, সংসদে দেওয়া তাঁর প্রথম বক্তব্যেই তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এখন আর শুধু আঞ্চলিক কোনো ইস্যু নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

রায়হান সিরাজী বলেন, “কবে নাগাদ তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে আমি সংসদে প্রশ্ন তুলেছি। কারণ, বছরের পর বছর ধরে তিস্তাপাড়ের মানুষ নদীভাঙন, খরা ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করে আসছে। তাদের দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতেও কথা বলার সুযোগ পেলেই তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও বঞ্চনার বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরব। সরকারের কাছে আবেদন থাকবে, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষকে তিস্তার ভয়াল গ্রাস থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”

বিদেশি অর্থায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি কোনো অর্থায়নের জন্য অপেক্ষা না করে নিজস্ব অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন নয়।”

তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশায় তিস্তাপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। সর্বশেষ একনেক সভাকে ঘিরেও এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে সেখানে তিস্তার পরিবর্তে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের বাজেট অনুমোদনের খবর তাদের হতাশ করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা চাতক পাখির মতো একনেক সভার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম, এবার হয়তো তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে। কিন্তু আমরা হতাশ হয়েছি। তিস্তার বদলে পদ্মা ব্যারাজের বাজেট এলো। তবে আমরা পদ্মা ব্যারাজের বিরোধী নই।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। পরে তিনি বলেছিলেন, বর্তমান সরকার কাজটি করতে না পারলে পরবর্তী সরকার দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার দাবি নতুন নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। অতীতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখনো কোনো নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দৃশ্যমান না হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “পদ্মা নিয়ে বড় প্রকল্প হতে পারে, তাহলে তিস্তা কেন নয়? কেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ বারবার বৈষম্যের শিকার হবে?”

সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত একনেক সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থ বরাদ্দ ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।

তিস্তাপাড়ের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন–তিস্তা কি আবারও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তবায়নের পথে এগোবে? বছরের পর বছর আশ্বাস, সমীক্ষা ও আলোচনার পরও প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে উত্তরাঞ্চলে। এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, তিস্তাকে আর কেবল নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে ব্যবহার না করে দ্রুত মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। কারণ, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়; এটি উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের জীবন, কৃষি ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অস্তিত্বের প্রশ্ন।