দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। রোববার (১ জুন) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের ২০১৩ সালের রায় বাতিল করে এই সিদ্ধান্ত দেন।
\r\nতবে জামায়াতের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ব্যবহার করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)।
\r\nরায়ের সময় আদালতে জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এবং ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।
\r\nএর আগে গত ১৪ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন এবং প্রতীক ফিরে পেতে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১ জুন তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত।
\r\n২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক স্বীকৃতি মেলে। কিন্তু এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট দলটির নিবন্ধন বাতিল করে অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
\r\nতবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত বছরের অক্টোবর মাসে আপিল বিভাগ জামায়াতের খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার অনুমতি দেয়, যার পরপরই আবার শুরু হয় আইনি লড়াই।
\r\nঅবশেষে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক স্বীকৃতি ফেরত এলো। তবে দলটির প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।
\r\nবিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।





