আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, “বর্তমানে বিচারব্যবস্থা পূর্ণ গতিতে চলছে এবং তা দৃশ্যমান। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আসন্ন নির্বাচনের আগেই ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে।”

সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ: জুলাই আপরাইজিং’-এর প্রিমিয়ার শো উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, “শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট দলের লোকজন বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে আছে। তারা তদন্তের নামে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। তাই আমরা সর্বোচ্চ মানের বিচার নিশ্চিত করতে চাই।”

তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময়কার দৃশ্যগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে—ভাইয়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে বোনদের মিছিল, এপিসি থেকে জীবিত ইয়ামিনকে ফেলে দেওয়া, পানি বিতরণ করা মা, লড়াইরত মাদ্রাসা ছাত্র এবং স্লোগান দিচ্ছেন রিকশাচালকরা। এমন মহাকাব্যিক দৃশ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জুলাই কখনো বেহাত হবে না। আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব নেই, তখন থেকেই বিচার, সংস্কার, শহীদদের পুনর্বাসন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা মাথায় ছিল। তাই হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র মা শামসি আরা জামান।

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “গত ১৬ বছরে জনগণ নিপীড়ন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদ উৎখাত করেছি, কিন্তু সংগ্রাম এখনো চলছে। শহীদদের স্মরণে এ ধরনের অনুষ্ঠান বারবার আয়োজন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এখনও পৌঁছাইনি। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফল আজকের এই অর্জন। প্রতিটি মাসেই শহীদদের স্মরণ করতে হবে।”

পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “জুলাই আন্দোলন আসলে ৩৬ দিনের নয়, এটি ৫৪ বছরের সংগ্রাম। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও সত্যিকারের স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ খুব কমই পেয়েছে।”

তিনি বলেন, “এখন আমাদের সাংস্কৃতিক জবাব দিতে হবে। সত্যকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা চলছে, তাই সত্যকে ইন্টেলেকচুয়াল ব্যাখ্যার মধ্যে আনতে হবে।”

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদ বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। আমাদের তা প্রতিহত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে নতুন প্রজন্মকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘন আমরা আর হতে দেব না। বাংলাদেশের জনগণ একবার ফ্যাসিবাদকে কবর দিয়েছে, তা যেন আর কখনো মাথা না তোলে।”

শহীদ আবু সাঈদের পিতা মো. মকবুল হোসেন বলেন, “আমার ছেলেকে হারিয়ে এক বছর হলো। এখনো বিচার হয়নি। আমি দ্রুত বিচার দাবি করছি, যেন অন্য কোনো পরিবার এ শোক বহন করতে না হয়।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সঞ্চালনা করেন প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক আরিফুর রহমান, এবং প্রযোজনায় ছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।