পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের মামলা থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল মোমেন। তিনি জানান, “মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ ছিল। তাই আমরা পুনরায় স্বয়ংসম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো।” মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

২০১২ সালে দুর্নীতি সন্দেহে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন স্থগিত করলে, ১৭ ডিসেম্বর তৎকালীন দুদকের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ বনানী থানায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি গ্রেপ্তার ও সাময়িক বরখাস্ত হলেও পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে সেতুদপ্তরে ফিরে যান।

চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন, “পদ্মা সেতুর পরামর্শকদের নিয়োগ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিভ্রাট ছিল। যদিও মামলার প্রমাণ পিপিএ ও পিপিআর-অনুমোদিত, তবুও শেষপর্যন্ত আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট ট্রু (এফআরটি) জমা দেওয়া হয়।”

তিনি আরো বলেন, “মূল্যায়ন কমিটি প্রয়োজনীয়ভাবে গঠন না করে কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়। একই জিনিসের পুনঃক্রয় দেখানো হয়েছে, যা অনিয়মের লক্ষণ। পরামর্শকদের জীবনবৃত্তান্ত (CV) সঠিকভাবে যাচাই করেনি, সাক্ষাৎ ও তথ্য গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও তা হয়নি।”

দুদক চেয়ারম্যান জানান, “আমরা মনে করি, আগের রিপোর্ট বাধ্য হয়েই দাখিল করা হয়েছিল—এজন্য প্রতিবেদন ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ। এবার পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করতে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই বড় প্রকল্পে দরপত্র ও পরামর্শদাতা নিয়োগে সরকারি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাই আমরা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো।”