দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাটের পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “পাট শুধু একটি তন্তু নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বহু বছর ধরে এ দেশ বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদন করে আসছে, যা আজকের পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

\r\n

রোববার (১ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে চীন–বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

\r\n

ড. ইউনূস বলেন, “পাটকে এখনো শুধুমাত্র বস্তা তৈরির কাঁচামাল হিসেবে দেখা হয়, অথচ এটি একটি পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু, যার বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। আমরা এখনো এর প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারিনি।”

\r\n

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই পাটকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হোক এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো হোক। আজকের এই সম্মেলন হতে পারে সে উদ্যোগের এক দুর্দান্ত সূচনা।”

\r\n

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি ও ঢাকাই মসলিনের গৌরবের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমরা একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ও মূল্যবান কাপড় তৈরি করতাম। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পাটকেও বিশ্বমঞ্চে সম্মানজনক অবস্থানে নেওয়া সম্ভব।”

\r\n

চীন–বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগ সম্মেলনে চীনের ১০০টি কোম্পানির প্রায় ২৫০ জন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

\r\n

সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্প বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।