বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফরের প্রথম দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সংস্কারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সীমিত সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য সম্মত হয়, তবে তা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হতে পারে। আর যদি ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তবে নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

\r\n

অধ্যাপক ইউনূস আরও উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার, খুনিদের বিচার এবং সাধারণ নির্বাচন—এই তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, \"পূর্ববর্তী সরকার আমাদের দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তরুণদের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।\"

\r\n

এদিকে, বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে সহযোগিতা কঠিন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানায়, \"সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের কারও কারও মধ্যে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে,\" এবং \"গণতন্ত্রকামী জনগণ ও গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে দয়া করে প্রতিপক্ষ বানাবেন না।\"

\r\n

অধ্যাপক ইউনূস জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে তিনি বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম সরাসরি দেখতে পারেন। জাপানি আইনপ্রণেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগস্ট মাসের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হবে, যা বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

\r\n

প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, \"রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট বিশ্বের অন্যান্য শরণার্থী সংকটের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ তারা অন্য কোনও দেশ নয় বরং তাদের নিজেদের বাড়ি-ঘরে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।\"

\r\n

এই বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (সিনিয়র সচিব) লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।