সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলন ও সংকট নিরসনে সরকার আট সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এই কমিটি বিক্ষোভরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজবে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান বাদিউল কবির যুগান্তরকে জানিয়েছেন। তবে বৈঠক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
এদিকে চতুর্থ দিনের মতো সচিবালয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ৬ নম্বর ভবনের পাশে বাদামতলায় জড়ো হয়ে কর্মচারীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ সরব করে তোলেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে, অবৈধ কালো আইন বাতিল কর করতে হবে, মানি না মানবো না, কালাকানুন মানবো না”—এমন স্লোগানে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ একটি নিবর্তনমূলক ও কালো আইন, যা কর্মচারীদের অধিকার খর্ব করবে এবং কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কা বাড়াবে। তাদের ভাষায়, এই অধ্যাদেশ ১৯৭৯ সালের একটি বাতিলকৃত আইনকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালত ইতিমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। তারা এই অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বলেন, “প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের সব কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”
সচিবালয়ের ভেতরে আন্দোলন চলতে থাকায় মঙ্গলবার থেকে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সচিবালয়ের প্রধান ফটকগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমকর্মীদেরও ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নেবে। তারা আপস নয়, সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।







