ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভকে ঘিরে প্রশাসন ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর শহরের বড় বাজারের শহিদ হাসান চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে। সমাবেশ চলাকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আয়োজকদের কাছে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে চান।
অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তিনি বিক্ষোভকারীদের পাঁচ মিনিটের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেন। এতে উপস্থিত ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা এ নির্দেশের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো অনুমতি নিয়ে হয়নি। তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা হাদিকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার হত্যার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামা কোনো অপরাধ হতে পারে না।
ঘটনাস্থলে কিছু সময় তর্কবিতর্ক চললেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এ সময় সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিক্ষোভকারীদের মধ্যেই অবস্থান করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। শুক্রবার তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে সারাদেশে শোকের আবহ তৈরি হয়।





