কর্মক্ষেত্র এখন শুধু কাজের জায়গা নয়, অনেকের জন্য সম্পর্ক গড়ে ওঠারও কেন্দ্র। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, অফিসের সহকর্মীর সঙ্গে প্রেম ও পরিণয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
‘ওয়ার্কপ্লেস রোমান্স স্ট্যাটিস্টিকস’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩ শতাংশ সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে গড়িয়েছে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, একই জায়গায় দীর্ঘ সময় কাজ করা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া এই সম্পর্ক গড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ। অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, একসঙ্গে কাজ করতে করতে সহকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ঘনিষ্ঠতা ও ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি হয়। পাশাপাশি ৬১ শতাংশ কর্মীর মতে, ব্যস্ত জীবনের কারণে বাইরে আলাদা করে সময় বের করতে না পারাও সম্পর্ক গঠনে ভূমিকা রাখে।
তবে এই সম্পর্ক সবসময় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। প্রায় ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া প্রায় ৪০ শতাংশ স্বীকার করেছেন, তারা অফিসের সম্পর্কের কারণে পূর্ববর্তী সঙ্গীর সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের মতো পরিস্থিতিতে জড়িয়েছেন।
কর্মক্ষেত্রের রোমান্সের নেতিবাচক দিকও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ৫৭ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, সম্পর্কের কারণে তাদের কাজের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ বলেছেন, তারা অফিসে গসিপ বা আলোচনার শিকার হন। ৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে ঈর্ষার অনুভূতিও দেখা গেছে।
আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, সম্পর্ক ভেঙে গেলে অফিসের পরিস্থিতি সামলাতে তারা আগেই ‘ব্রেকআপ প্ল্যান’ তৈরি করে রাখেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে প্রেম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ নীতিমালায় স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকলে সম্ভাব্য জটিলতা ও পক্ষপাতের অভিযোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।





