প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেছে। স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কে ‘এনআরবি কানেক্ট ডে: এমপাওয়ারিং গ্লোবাল বাংলাদেশিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের উদ্দেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের মুখে চলে গিয়েছিল। আপনাদের রেমিট্যান্সই তা বাঁচিয়েছে। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পেছনে প্রবাসীদের অবদানই প্রধান চালিকাশক্তি।”
বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে নোবেলজয়ী ইউনূস বলেন, দেশে বিপুল তরুণ জনশক্তি রয়েছে। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তর করে এই মানবসম্পদ কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা বাংলাদেশের অংশ। আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিনিয়োগ করুন, নতুন ধারণা নিয়ে আসুন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।”
অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে ইউনূস বলেন, নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সমুদ্রবন্দরহীন। বাংলাদেশ যদি তাদের জন্য সমুদ্র উন্মুক্ত করে, তবে সবাই উপকৃত হবে। তিনি জানান, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বঙ্গোপসাগরের গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের পদক্ষেপে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল হয়েছে, গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে।
এ সময় ‘হারনেসিং ডায়াসপোরা অ্যাজ আ ন্যাশনাল অ্যাসেট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, যিনি বলেন প্রবাসীরা দেশের অমূল্য সম্পদ এবং গণআন্দোলনেও তাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। অপর একটি সেশন পরিচালনা করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যেখানে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতারা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা প্রবাসীদের সেবা, নির্দেশনা ও বিনিয়োগ সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে নির্মিত ‘শুভেচ্ছা’ মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন করেন।