জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ‘হত্যা ও গণহত্যার’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অভিযোগ করেছেন, আদালতের অনুমতি ছাড়াই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কারাগারে গিয়ে তার কণ্ঠ রেকর্ড করেছেন।

রোববার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তিনি বলেন, “কোনো ধরনের আদালতের আদেশ ছাড়া এবং আমার সম্মতি ছাড়াই ভয়েস রেকর্ডিং করা হয়েছে। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত।”

তবে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগটি নাকচ করে বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তদন্ত সংস্থার সদস্যরা ইনুর কণ্ঠ পরীক্ষা করেছেন। এমনকি ট্রাইব্যুনালের আদেশও ছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ইনু আদালতের কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত করছেন, যা নিয়মবহির্ভূত।

এ সময় বিচারক বলেন, “ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনে আসামি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের বক্তব্যও শোনা হবে।”

এদিন মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত শেষ করতে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করে। প্রসিকিউশনের সময় প্রার্থনার প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা।

সকালে এসব মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে আনিসুল হক, দীপু মনি, আমির হোসেন আমু, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ৩৯ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকিদের মধ্যে আছেন—ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

এর আগে, গত বছর ১৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষের নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। তবে সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নিরাপত্তা বাহিনী গণহত্যা চালায়। নিরস্ত্র ছাত্র ও জনতার ওপর গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার নেতৃত্ব, নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা হয়।

পরে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যার অধীনে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।