যে ইজরায়েল এক সময় নিজেদের ভাবতো অজেয়, সেই রাষ্ট্র এখন কার্যত ইরানের মিসাইল বৃষ্টিতে উন্মুক্ত মাঠ। একের পর এক হামলায় তাদের সেনাঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, গবেষণা কেন্দ্র, সব জ্বলছে। ইরান শুধু হামলা করেনি, দিয়েছে surgical precision-এ পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক আঘাত। যুদ্ধ যে শুধু রণক্ষেত্রে হয় না, তা এবার প্রমাণ করলো তেহরান।

Iron Dome- যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল ইজরায়েলের গর্ব। এবার সেটাই পরিণত হয়েছে অবিশ্বস্ত ছিদ্রপথে। ৯০% ইন্টারসেপশন রেট নেমে এসেছে ৬০% এর নিচে। আগেই যেটা ছিল “untouchable zone”, আজ সেখানেই পড়ছে বৃষ্টির মতো ড্রোন, মিসাইল, সাইবার স্ট্রাইক।

নেতানিয়াহু, যিনি ‘Mr. Security’ নামে পরিচিত ছিলেন, এখন কার্যত নিঃশব্দ। মিডিয়ার সামনে নেই, কোনো সাহসী বিবৃতি নেই, শুধু নীরবতা। Silence is the new scream নেতানিয়াহু, যার মুখ থেকে বাণীর বন্যা ঝরতো, আজ সে মুখ বন্ধ। না কোনো হুমকি, না কোনো দাবি শুধু ঠাণ্ডা ঘামে ভেজা বিবর্ণ নীরবতা। এ যেন এক পরাজিত সম্রাটের নিঃশব্দ প্রস্থান। মিডিয়ার সামনে যে মানুষটা দাঁড়িয়ে \"we will destroy them\" বলে গর্জাতো, সে এখন নিখোঁজ। কোথায় সেই বোল্ড লাইন? কোথায় সেই ফায়ার?

এত বড় ধাক্কা ইজরায়েল তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর কখনোই খায়নি। এবার শুধু সামরিক ব্যর্থতা নয়, গোটা আইডেন্টিটিই shaken। ইরান তাদের চোখে চোখ রেখে বলছে \"তোমাদের একচেটিয়া আধিপত্য শেষ\"।

মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প নিজেও বারবার বলছেন \"Ceasefire now\"। অথচ এই ট্রাম্পই এক সময় বলেছিলেন, \"Only force can stop Iran\"।
হিজবুল্লাহ সীমান্তে চাপ বাড়াচ্ছে, হামাস তেলআবিবে বার্তা দিচ্ছে, হুথিরা ড্রোন পাঠাচ্ছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে এত ফ্রন্ট খুলে কেউ ইজরায়েলের মুখে এমন চপেটাঘাত দেয়নি। এটা শুধু যুদ্ধ নয় এটা এক hegemonic myth এর পতন।

এখন প্রশ্ন, ইজরায়েল কি সামলে উঠতে পারবে? নাকি তারা কার্যত আত্মসমর্পণ করেই ফেলেছে? যুদ্ধবিরতির কথা যে মুখে আসে, সে মুখে আসলে বিজয়ের বুলি থাকে না । মধ্যপ্রাচ্যের বুকে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। সেখানে আগের মতো unilateral domination আর চলবে না। এই যুদ্ধ শুধু মিসাইলের নয়, এটি narrative-এরও। এবং এখন সেই narrative বদলে যাচ্ছে-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে, ইরানের পক্ষে।
Who’s in control now? The answer is loud. And it’s not Tel Aviv.

লেখক,
সানাউল হক সানি
সিনিয়র রিপোর্টার, কালবেলা