প্রখ্যাত নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েত সম্প্রতি এক পডকাস্টে কোরআন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। আলোচনায় তিনি জানান, কোরআনের ‘ভুল’ খুঁজতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তার নিজের চিন্তা ও বিশ্বাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
পডকাস্টে তিনি বলেন, জীবনের এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক নানা প্রশ্ন তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিশেষ করে কাছের মানুষের মৃত্যু ও জীবনের অনিশ্চয়তা তাকে স্রষ্টা ও অস্তিত্বের প্রশ্নে ভাবতে বাধ্য করে। সেই সময় ধীরে ধীরে তিনি ধর্ম থেকে দূরে সরে গিয়ে নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তিনি জানান, এ সময়ে তিনি আলবার্ট আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিং-এর মতো বিজ্ঞানীদের লেখা পড়ে যুক্তিবাদী ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় তিনি নিজেকে একজন দৃঢ় নাস্তিক হিসেবেই ভাবতেন।
তবে তার জীবনে পরিবর্তনের সূচনা হয় ভিন্ন এক উদ্দেশ্য থেকে। কোরআনের ‘ভুল’ প্রমাণ করার আগ্রহ থেকেই তিনি কোরআনের একটি বাংলা অনুবাদ পড়া শুরু করেন। কিন্তু সেই অনুসন্ধানই তার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দেয় বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোরআন পড়ার কয়েকদিনের মধ্যেই কিছু আয়াত তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। বিশেষ করে মানুষের সৃষ্টির বিষয় এবং মানবজীবনের অর্থ নিয়ে কোরআনের বক্তব্য তার মনে নতুন প্রশ্ন ও উপলব্ধির জন্ম দেয়। ধীরে ধীরে তিনি কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা শুরু করেন।
গাজী রাকায়েত বলেন, কোরআনের আয়াতগুলো সঠিকভাবে বুঝতে হলে প্রেক্ষাপট, তাফসির ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, অনেক সময় না জেনে বা আংশিক জ্ঞান নিয়ে মন্তব্য করার কারণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
পডকাস্টে নিজের এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, এটি কোনো হঠাৎ পরিবর্তন নয়, বরং ধীরে ধীরে সত্যকে গ্রহণ করার একটি মানসিক প্রক্রিয়া।
তিনি আরও বলেন, “কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে সেটিকে গভীরভাবে বোঝা দরকার। না জেনে মন্তব্য করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।”
তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত উপলব্ধির একটি আন্তরিক বর্ণনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা করছেন।
বর্তমানে গাজী রাকায়েত নিয়মিত ধর্মচর্চা করছেন বলেও জানান। পাশাপাশি কোরআনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন ও গবেষণার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি।





