বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির নবায়নকে সামনে রেখে ঢাকা এবার শুধু মেয়াদ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীর পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় একটি নতুন ও টেকসই কাঠামো চায়।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, বাংলাদেশ এবার ‘ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল’ পানিবণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত তিন দশকে নদীর প্রবাহ, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও কৃষি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে পুরোনো কাঠামো বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে আর পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান দিল্লি সফর শেষে জানিয়েছেন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি চুক্তি চায় যেখানে ন্যূনতম পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

গত এপ্রিল মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন। যদিও ভারত এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনার পূর্ণ রূপরেখা প্রকাশ করেনি, তবে দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শাহাব এনাম খান মনে করেন, নতুন চুক্তিতে শুধু প্রকৌশলগত দিক নয়, বরং পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার মতে, তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুকনো মৌসুমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা, কৃষি সংকট ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বাড়ছে। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, গঙ্গা, তিস্তা ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তার মতে, নতুন বাস্তবতায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন আলোচনা শুধু একটি পুরোনো চুক্তির নবায়ন নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।