চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমন–অভিযান, গায়েবি মামলা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নিয়োগ–বাণিজ্যের মতো অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বর্তমানে তিনি কলকাতায় পলাতক জীবন কাটাচ্ছেন।
জুলাই আন্দোলন ও গণহত্যার অভিযোগ
জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল। ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের নির্দেশেই আন্দোলন দমনে গুলি চালানো হয়।”
নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে প্রভাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, একক সিদ্ধান্তে অনেক যোগ্য কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দিয়ে আনুগত্যশীলদের পদোন্নতি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এ ছাড়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের হাতে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া, হেলমেট বাহিনী গড়ে তোলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
গায়েবি মামলা ও নিপীড়ন
তার আমলে ‘গায়েবি মামলা’ ছিল রাজনৈতিক দমন–পীড়নের অন্যতম হাতিয়ার। মৃত ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এমনকি শিশুদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।
শুধু ২০১৮ সালের এক মাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মামলা হয়, যাতে আসামি করা হয় তিন লাখের বেশি মানুষকে। ওই সময় দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়, এবং বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।
দুর্নীতি ও সম্পদ বাণিজ্যের অভিযোগ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তার ও পরিবারের নামে শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নিয়োগ–বদলি বাণিজ্য: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এনজিও সংক্রান্ত অনুমোদনে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হতো।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ: রাষ্ট্রীয় কেনাকাটা ও অবকাঠামো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তার ঘনিষ্ঠদের প্রভাব বিস্তার ছিল প্রকাশ্য গোপন।
চাঁদাবাজি: কারওয়ান বাজার এলাকায় কাউন্সিলর শামীমের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও রাজনৈতিক সহিংসতার দায়
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার অভিযোগ করেছে, তার সময়ে গুম, ক্রসফায়ার ও রাজনৈতিক সহিংসতা ব্যাপক হারে বেড়েছিল।
বিরোধী দলের সভা–সমাবেশ ভাঙতে পুলিশ ও দলীয় কর্মীরা একযোগে হামলা চালাত, এবং এসব অভিযানে সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
পলাতক জীবন কলকাতায়
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। বর্তমানে কলকাতার শোভাবাজার এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
সেখানে তিনি আওয়ামীপন্থী গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করছেন। সূত্র বলছে, কলকাতাতেই তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছেন।