তিন দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা। শুক্রবার (১৬ মে) পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে জুমার নামাজের পর দুপুর সোয়া ২টার দিকে তারা সমাবেশ শুরু করেন।

\r\n

সমাবেশে অংশ নেন জবির বিভিন্ন বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অ্যালামনাই এবং শিক্ষকরা। বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।  

তাদের তিন দফা হলো—

১. আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ‘আবাসন বৃত্তি’ কার্যকর করা।

২. প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন।
৩. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রকল্প পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন ও অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন।

\r\n

শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। শুক্রবার বিকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।”

\r\n

তিনি জানান, গত বছরের নভেম্বরেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছিল। ওই সময় দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রস্তাব একনেক সভায় অনুমোদিত হওয়ার তথ্য শিক্ষার্থীদের অজানা ছিল।

\r\n

উপদেষ্টা জানান, কেরানীগঞ্জে আধুনিক ও পরিকল্পিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার জন্য বলা হয়েছিল। তবে এ কাজে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

\r\n

তিনি বলেন, “যেসব নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার চলে গিয়েছিল, সেগুলো শেষ করাসহ দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় উঠে আসে। এখন এই বিলম্বের কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি খতিয়ে দেখবে বলে আশা করি।”

\r\n

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “যদি একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টার প্ল্যান অথবা তার অধীন একটি প্রকল্প যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে দ্রুত একনেকে অনুমোদন সম্ভব। শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় রয়েছে।”

\r\n

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রমের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এখন সময় দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়ার।”

\r\n

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।