জামায়াতের যে রাজনৈতিক উত্থান হয়েছে সেটা মুলত এই দলটি যুগ ধরে যে জুলুমের স্বীকার হয়েছে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে। আমরা যদি জামায়াতের এই উত্থানকে জামায়াতের বুদ্ধিবৃত্তিক বিজয় মনে করি সেটা একটা বড় ভুল উপসংহার হবে। জামায়াতের বর্তমান নের্তৃত্ব গভীর চিন্তা করতে পারে না। আমার ধারণা জামায়াতের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নের্তৃত্ব মওদুদীর স্কলারশিপের এপিস্টেমিক এজাম্পশন এবং তার কি আরগুমেন্ট পাঠোদ্ধার করতে পেরেছে।
তারা যদি সেটা পারতো তাইলে তারা মওদুদীর স্কলারশিপকে আরও এক্সটেন্ড করে আরও রিচ করতে পারতো। মওদুদীর বেশ কিছু আরগুমেন্ট বা তত্ত্ব আছে যেটা কিনা তারই এপিস্টেমিক প্রেমিস দিয়ে এক্সটেন্ড করতে হবে। সেই ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপাসিটি জামায়াতের নাই।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নেক্সট নির্বাচনে জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কন্টেন্ডার। তারা বলছে তারা কোরান অনুযায়ী দেশ চালাবে, অথচ তারা এখনো এটা স্পষ্ট করতে পারে নি যে, কোরআন অনুযায়ী তাদের নারী নীতি কেমন হবে, কোরানের আলোকে দেশের অর্থনীতি কিভাবে অপারেট করবে -সুদ থাকবে, কি থাকবে না? ইতোমধ্যে তথাকথিত ইসলামিক ব্যাংকিং নিয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে সেটা নিয়ে তাদের অবস্থান কি হবে? ব্যাবসা বাণিজ্য র নীতিমালা কি হবে? মদের ব্যাবসা থাকবে কি, থাকবে না, দেশের ফরেন পলিসি কি হবে ইসলামের আলোকে, দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থা কি হবে ইসলামের আলোকে।
আরেকটা প্রশ্ন হলো ক্ষমতায়া যাওয়ার পরে অর্থডক্স আলেম যেমন আহমাদুল্লাহদের কিভাবে ডিল করবেন। এমনকি তাদের নিজস্ব অর্থডক্স আলেম আজহারী, বাশারদেরকে কিভাবে ডিল করবেন? তারা এখনই জামায়াত আমিরের হিন্দু ভাইদের জন্য পুজার শুভেচ্ছা দেয়াতে যেভাবে ক্ষেপে ঊঠছেন!!
জামায়াত নের্ত্বত্বের স্পিসেস এবং স্টেইটমেন্ট এ আমরা আশ্বস্ত হতে পারিনা যে এই বিষয় গুলো নিয়ে তাদের যথেষ্ট ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপাসিটি আছে। আমার আশংকা তারা নির্বাচিত হলে দেশ চালাতে পারবে না। ইন্টার্নাল এবং এক্সটার্নাল ঊভয় কারনেই। এবং ওয়ায়েল হাল্লাকের তত্ত্বকে সত্য প্রমাণ করে ছাড়বে।
জামায়াতের এই ব্যার্থতা মুলত ইসলামকেই পিছিয়ে দিচ্ছে বা আরও দিবে। এই ব্যার্থতার ফলে সমাজে কিংবা রাজনীতিতে আসিফ আদনানদের মত কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীদের অবস্থান শক্ত হচ্ছে এবং ওয়ায়েল হাল্লাকের ডিপলি ফ্লড হাইপোথিসিস সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে বা হবে। ওয়ায়েল হাল্লাকের তত্ব হলো ইসলামিক স্টেইট এক অসম্ভব ধারণা।হাল্লাকের তত্ত্বকে সঠিক ধরে কট্টরপন্থীরা তথাকথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে।
হাল্লাকের তত্ত্ব সঠিক ধরা মানে এটা মেনে নেয়া যে, ইসলাম ইজ নট আ কমপ্লিট কোড অব লাইফ, যেখানে মওদুদীর সিগ্নেচার তত্ত্ব হলো, ইসলাম ইজ আ কমপ্লিট কোড অব লাইফ এবং যেটা এখন সব হুজুরেরাই বলে বেড়ায়, বুঝে হউক আর না বুঝে হউক।
তার মানে হলো, টেরেস্ট্রিয়িয়াল সমস্যার জন্য ইসলামকে অকার্যকর মনে করা। তার মানে হলো, ইসলাম একটা ইনেপ্ট সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট বা আদর্শ। এইটার আরেকটা ভয়াবহ অর্থ হলো মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ মানুষের জন্য একটা পার্থিব বিধান দিতে অক্ষম। মানে হলো, মানুষ মানুষের স্রষ্টার চাইতে বেশি জ্ঞানী।
অথচ আল্লাহ বলছেন, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়েম মিন ইলমিহ ইল্লা বামাশায়া। অর্থাৎ মানুষের স্রষ্টা মানুষকে যে জ্ঞান দিয়েছেন তার চে এক বিন্দু পরিমাণ বেশি সে জানেনা। অনত্র্য আল্লাহ বলেন মানুষকে অতি সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।





