জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ‘হত্যা ও গণহত্যার’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক সাতটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৩৯ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) তাদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এই মামলার শুনানি হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে।
হাজির হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার মন্ত্রিপরিষদের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
এর আগে ২০২5 সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, একই মামলায় শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে দুই মাস সময় দেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ১৬ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দায়ের করা এক মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো, হত্যা ও নিপীড়নের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন দমন করতে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। আন্দোলনের মধ্যে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং গণহত্যার ঘটনায় বিচারের উদ্যোগ নেয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান।






