গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশে একটি উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সুযোগের সমতা ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, এই লক্ষ্য পূরণে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন জরুরি এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণসংহতি আন্দোলন–জিএসএ আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে শিক্ষা সংস্কার ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের অংশ হিসেবে চলছে ‘আপনার মতামত, আমাদের ইশতেহার’ উদ্যোগ। অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের শিক্ষা সংস্কার খসড়া উপস্থাপন করেন আতিকুল বারী চৌধুরী।
সাকি বলেন, দক্ষ ও মানবিক উভয় ধরনের জনগোষ্ঠী তৈরি করা প্রয়োজন। এজন্য শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল, সুবিধা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মনে করেন, বাজেট, নীতি সংস্কার, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব।
লেখক ও চিন্তক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, গণশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত এগোবে। তার মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান দুর্বল হলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, দেশে সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষার প্রবণতা বেড়েছে, যা পরিবর্তন করা জরুরি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, শিক্ষার সঙ্গে রাজনীতি ও বাণিজ্যের সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে, যা মান হ্রাসের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এগোচ্ছে, তাই সৃজনশীল জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন লেখক ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান, শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক আবুল হাসনাত কবির, প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মনযূরুল হকসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, বিশেষজ্ঞ মতামত ও জনগণের প্রস্তাব একত্র করে দলের চূড়ান্ত নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হবে।





