জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জনসংস্কার কমিশনের কাছে নয়টি সুপারিশ উত্থাপন করেছে। আজ মঙ্গলবার (৬ মে) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার।
\r\nতিনি বলেন, “আমরা মনে করি, প্রাদেশিক সরকার বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই মুহূর্তে এ ধরনের ব্যবস্থা দরকার নেই। বরং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।”
\r\nসরোয়ার তুষার জানান, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। বিশেষ করে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, পরিকল্পনা ও পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর স্থায়ী কমিটির প্রধান যেন বিরোধী দলের কেউ হন—এ নিয়ে আলোচনার কথা জানান তিনি।
\r\nসংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রস্তাব
\r\nসরোয়ার বলেন, সংসদ সদস্যদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ৭০ অনুচ্ছেদে সংশোধনের প্রয়োজন আছে। “আমরা প্রস্তাব করেছি—অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ইস্যুতে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন।”
তিনি আরও জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার স্ট্রাকচার’ বা ‘প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা’ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ এনসিপির পক্ষ থেকে এসেছে।
\r\nপ্রধান বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে মত
\r\nপ্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “জ্যেষ্ঠ তিনজনের মধ্য থেকে কাউকে বাছাই করতে হবে।” এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থার কথা এনসিপি সমর্থন করেছে।
নারী আসন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
\r\nতিনি জানান, এনসিপি ১০০টি নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব সমর্থন করেছে। উচ্চ কক্ষে নারীর অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশ নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তারা।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন বিষয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “জেলা পরিষদ ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের বিলুপ্তির বিপক্ষে আমরা মত দিয়েছি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান যেন সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন—এটা আমরা সমর্থন করেছি। এছাড়া, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়ার পক্ষে আমরা অবস্থান নিয়েছি। কারণ এতে সহিংসতা এবং সাংস্কৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।”
\r\nসরোয়ার তুষার আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রতি অর্থবছর না দিয়ে প্রতি বছর দেওয়ার বিধান করার প্রস্তাব দিয়েছে এনসিপি। এছাড়া, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক ক্ষমতা না দিয়ে তা শুধুমাত্র বিচার বিভাগে রাখার পক্ষে তারা মত দিয়েছে।
\r\nঅতিরিক্ত বিভাগ ও ভূমি আদালত প্রসঙ্গে
\r\nফরিদপুর ও কুমিল্লাকে নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাবে দলটি একমত হয়েছে বলে জানান এনসিপির এই নেতা। স্বতন্ত্র ভূমি আদালতের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে তারা, তবে কাঠামোগত দিক নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।







