বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার। দেশের প্রথম হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে সম্মানজনক ‘লিড গোল্ড’ সনদপত্র। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজনেস ম্যাগাজিন ‘এন্ট্রাপ্রেনার’-এ উঠে এসেছে এর আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও অর্জনের গল্প।
এই দুটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি শুধু ল্যাবএইডের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য এক অনন্য অর্জন। ‘লিড’ বা *লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন* হলো বিশ্বজুড়ে গ্রিন বিল্ডিংয়ের শীর্ষ রেটিং সিস্টেম, যা প্রতিষ্ঠানের টেকসই নকশা, শক্তি দক্ষতা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতে কঠোর মানদণ্ডে মূল্যায়ন করে। ল্যাবএইড এই সনদ অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে, বিশ্বমানের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবেশগত দায়বদ্ধতা রক্ষায়ও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের লক্ষ্যই ছিল—বাংলাদেশে বিশ্বমানের ক্যান্সার চিকিৎসা চালু করা, যাতে রোগীদের আর বিদেশমুখী হতে না হয়। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ১০ লাখেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা প্রদান ও ২,০০০-এর বেশি সফল অস্ত্রোপচার করে প্রতিষ্ঠানটি দেশে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
এই পথচলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে ‘এন্ট্রাপ্রেনার’ ম্যাগাজিন থেকে। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রভাবশালী ম্যাগাজিনটি উদ্ভাবনী ও সাফল্যগাঁথা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরে। ল্যাবএইডের প্রতিবেদনে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি যেমন জেন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, ও অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি প্রযুক্তি (IMRT, IGRT, VMAT) সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে, রোগী-কেন্দ্রিক মানবিক সেবার জন্যও হাসপাতালটির ভূয়সী প্রশংসা করেছে ম্যাগাজিনটি।
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম এই অর্জন প্রসঙ্গে বলেন, “এটি কেবল ল্যাবএইডের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও গর্বের একটি অধ্যায়। লিড গোল্ড সনদ ও ‘এন্ট্রাপ্রেনার’-এ প্রতিবেদন প্রকাশ প্রমাণ করে, আমরা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রোগীসেবায় অগ্রগতি সাধন করছি। এখন দেশের মানুষ নিজ দেশে বসেই সেই চিকিৎসা পাচ্ছেন, যেটা এক সময় বিদেশে গিয়ে নিতে হতো। এ কারণে আমাদের প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।”







