বিশ্ব বরেন‍্য নোবেল বিজয়ী ড মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ সফলতা অর্জন করে চলেছে। সারাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমের সরকারের নিকট  অনেক প্রত্যাশা। হজ একটি স্পর্শকাতর ধর্মীয় ফরজ ইবাদত। ধর্ম উপদেষ্টা মহোদয় ও বর্তমান সচিব সুষ্ঠ হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে রাতদিন আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

ছাত্রজনতার জুলাই আন্দোলনের পর প্রায় সকল মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী ফ‍্যাসিবাদ নির্মূলে কাজ করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ধর্ম মন্ত্রনালয়ের একজন কর্মকর্তারও শাস্তি,বদলী, ওএসডি কিছুই হয় নাই। তাহলে ধর্ম মন্ত্রণালয় কি আওয়ামী ফ‍্যাসিবাদ মুক্ত ছিল? এত দূর্নীতি তাহলে কারা করলো? এ প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে।

এই মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ড.মোঃ মন্জুরুল হক মন্ত্রণালয়ের হজ শাখার হর্তাকর্তা বনে যান। হজ শাখার পুরো দায়িত্ব এই আওয়ামী ফ‍্যাসিবাদির উপর ন‍্যাস্ত। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজের মত স্পর্শকাতর একটি উইং এর দায়িত্বে পলাতক হাসিনার দোসর এই মন্জুরুল হক কিভাবে এখনো বহাল তবিয়তে আছে তা অতি আশ্চর্যের বিষয়। এ বছর হজ কার্যক্রমে সংকট ও বিশৃঙ্খলা তৈরী করে অধ‍্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এই লোক বিশেষ এসাইনমেন্ট নিয়ে ঘাপটি মেরে আছে। পলাতক হাসিনা সরকারের সকল গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বিতাড়িত হলেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ফ‍্যাসিবাদের দোসররা বহাল তবিয়তে রয়েছে।

এ বছর ২০ হাজার হজযাত্রী হজে যেতে পারবেন না বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ফ‍্যাসিবাদের দোসররা খুব পরিকল্পিতভাবে সরকারকে বিপদে ফেলতে এসব করছে। সময়মত পদক্ষেপ না নেয়া বা মাননীয় উপদেষ্টা ও সচিবকে ভুল বুঝিয়ে হজ ব‍্যবস্থাপনা চরম বিশৃঙ্খলা তৈরী করে সরকারকে বিপদে ফেলতে কাজ করছে এ চক্র। এ চক্রে আছে হাসিনার দোসর জুলাই হত‍্যকান্ডের হুকুমদাতা সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমের আপন ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম। বর্তমানে সে মক্কার কাউন্সিলর ( হজ) এর দায়িত্বে রয়েছেন। তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে জেলে আছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামী।

ফ‍্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পরিবর্তন হলেও ধর্মমন্ত্রনালয়ে কোন পরিবর্তন হয়নি। ফ‍্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বহাল তবিয়তেই আছে এখনো। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফ‍্যাসিবাদের অন‍্য দোসররা বিতাড়িত হলেও, হজের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। 

এ বছর এজেন্সী প্রতি হাজির সর্বনিম্ন সংখ‍্যা ২৫০ থেকে হঠাৎ করে ১ হাজার করা হয়। এ বিষয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে উপদেষ্টা মহোদয়কে মিসগাইড করেছে ফ‍্যাসিবাদের দোসররা। অথচ সউদি সরকার এজেন্সী প্রতি হাজীর সর্বনিম্ন সংখ‍্যা ৫০০ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রনালয়কে অবহিত করে। মন্ত্রনালয় থেকে সর্বনিম্ন সংখ্যা ৫০০ জন এর সার্কুলার দেয়া হয় এবং এজেন্সী গুলিও সে মোতাবেক লিড এজেন্সির কাজ সম্পন্ন করে। এরপর পূনরায় আবার পত্র দিয়ে জানানো হয় এজেন্সি প্রতি হজযাত্রীর সর্বনিম্ন সংখ্যা ১০০০ জন । এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের কারনেই এ বছর হজ ব‍্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে।

এজেন্সী প্রতি হাজীর সংখ‍্যা যত বেশী হবে হজযাত্রীদের সেবা দেয়া এজেন্সীর পক্ষে তত কঠিন হবে। বেসরকারি হজযাত্রীদের বাড়ী ভাড়া হয় নাই। সউদি সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তা করতে পারে নাই এজেন্সিগুলো, কারন মন্ত্রণালয়ের মন্জুরুল হক সময়মত পদক্ষেপ নিতে পারে নাই। একদিকে এজেন্সি বাড়ী ভাড়া করতে যাওয়ার ভিসা দিতে পারেনি মন্ত্রণালয়, অপরদিকে সউদি সরকার থেকেও সময় বৃদ্ধি করতে পারেনি। ফলে প্রায় ২০ হাজার হজযাত্রীর জন‍্য বাড়ী ভাড়া হয় নাই। যে বিষয়টি সবচেয়ে আতংকের তা হলো অনেক এজেন্সী হজযাত্রীদের জন‍্য বাড়ী ভাড়া না করে বাড়ি ভাড়ার কাগজ কিনে তা দিয়ে ফরমালিটি সমাপ্ত করেছে। অর্থাৎ হজযাত্রীদের ভিসা করার জন‍্য অনলাইনে বাড়ী ভাড়ার ডকুমেন্ট আপলোড করতে হয়। তা আপলোড করার শেষ সময় ৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে। অনেক এজেন্সী হজযাত্রীদের বাড়ী ভাড়া এসময়ে করতে পারে নাই। তারা বাড়ী ভাড়ার ভূয়া কাগজ (তসরিয়া) ক্রয় করেই হজ সিস্টেমে আপলোড করেছে।

এ সকল হজযাত্রী সউদি আরবে গিয়ে বাড়ী বা হোটেল পাবেন না। তখন বিশাল সমস‍্যা তৈরী হবে। মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টা ও সচিব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্যে। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ প্রবল বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে তাকিয়ে আছে বর্তমান ছাত্রজনতার সরকারের দিকে। বর্তমান সরকারের সফলতার জন‍্য দেশের সকল মানুষের দোয়া ও সমর্থন আছে। কিন্তু আওয়ামী ফ‍্যাসিবাদের দোসরা  হজ শাখার মত এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কিভাবে এতদিন পর্যন্ত ঘাপটি মেরে বসে আছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। হজের মত স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা এবং ফ‍্যাসিস্টের দোসরদের হাতে এর পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে আমরা বিপদ ডেকে আনছি কি না,সুশৃঙ্খল হজ ব‍্যবস্হাপনা স্বার্থে ও সরকারের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে হজের আগেই ধর্মমন্ত্রনালয়ের হজ শাখা দ্রুত আওয়ামী ফ‍্যাসিস্ট মুক্ত করা অতীব জরুরী। অন্যথায় সময় চলে গেলে কিছুই করার থাকবে না।