ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা কিংবা বিশেষ কাউকে সামনে আনার উদ্দেশ্যে সরকার যদি নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেয়, তাহলে জনগণের আস্থা ভেঙে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। সোমবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
\r\nতিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক বছর পরেও নির্বাচনকে ঘিরে স্পষ্ট কোনো ক্যালেন্ডার নেই। কেউ বলছে ডিসেম্বরে ভোট হোক, কেউ বলছে সংস্কারের জন্য সময় দরকার। কেউ আবার নিশ্চুপ থেকে কেবল পর্যবেক্ষণ করছে—কে আগে হারে, কে আগে সরে যায়।”
\r\nএই অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম। জিল্লুর রহমান মনে করেন, ভোটের প্রস্তুতি তিনি চালালেও তার সময়সূচি সংক্রান্ত বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
\r\nজিল্লুর রহমান বলেন, “জাপানের টোকিওতে ড. ইউনূস বললেন জুনে নির্বাচন হতে পারে। এরপর জাতির উদ্দেশে ভাষণে বললেন, এপ্রিলের প্রথমার্ধে ভোট হতে পারে। আবার লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর নতুন তারিখ আসে—ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বা রমজানের আগের সপ্তাহে। এতে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।”
\r\nদেশে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই এই সময়সূচিতে সন্তুষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
\r\n২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং জানুয়ারিতে গঠিত হয় ১১টি সংস্কার কমিশন। কমিশনগুলোর প্রস্তাবে উঠে আসে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব নির্ধারণ, সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনসহ কাঠামোগত সংস্কারের দাবি।
\r\nজিল্লুর রহমান জানান, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ডিসেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীও ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোটের কথা বলেছে। তাঁদের যুক্তি, দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার নামে নির্বাচন বিলম্বিত হলে জনগণের আস্থা হ্রাস পাবে এবং নির্বাচনের প্রকৃত অর্থ হারাবে।
\r\nঅন্যদিকে জামায়াত, এনসিপি এবং আরও কয়েকটি দল বলছে, সংস্কার আগে সম্পন্ন হোক তারপর নির্বাচন হোক। কেউ কেউ ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বলছে, কেউ আবার জুন পর্যন্ত সময় চাইছে। আবার কেউ দাবি করছে, শেখ হাসিনার বিচার এবং সব সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন করা ঠিক হবে না।
\r\nজিল্লুর রহমানের মতে, “প্রধান উপদেষ্টার বারবার ভিন্ন সময়সূচি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এ যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো। একদিকে সংস্কার থেমে আছে, অন্যদিকে সমঝোতার চেষ্টা নেই। এই বাস্তবতায় জনগণ ক্রমেই হতাশ এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।”
\r\nতার বক্তব্যে স্পষ্ট—নির্বাচনের সময় নির্ধারণে গড়িমসি হলে শুধু রাজনৈতিক সংকটই নয়, গণতন্ত্রের ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। “রাজনীতিতে সময়ানুবর্তিতা গুরুত্বপূর্ণ। সময় মতো সিদ্ধান্ত না নিলে আস্থা আর ফিরে আসে না,” মন্তব্য করেন তিনি।







